Home বাংলাদেশ দুদকের মামলায় সাংবাদিক আনিস আলমগীর গ্রেপ্তার দেখালেন আদালত

দুদকের মামলায় সাংবাদিক আনিস আলমগীর গ্রেপ্তার দেখালেন আদালত

0
60

সাংবাদিক আনিস আলমগীরকে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। তাঁর বিরুদ্ধে প্রায় সাড়ে তিন কোটি টাকা জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে।

আদালতের আদেশ

বুধবার (২৮ জানুয়ারি) ঢাকা মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ মো. সাব্বির ফয়েজ এ আদেশ দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দুদকের পাবলিক প্রসিকিউটর তরিকুল ইসলাম।

আদালতে হাজির করার বিবরণ

আজ সকাল ৯টা ৫০ মিনিটে আনিস আলমগীরকে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের হাজতখানায় নেওয়া হয়। পরে বেলা ১১টার দিকে তাঁকে হেলমেট ও বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট পরিয়ে, দুই হাতে হাতকড়া লাগিয়ে আদালতে হাজির করা হয়। এ সময় তাঁর সঙ্গে ১৫ থেকে ২০ জন পুলিশ সদস্য উপস্থিত ছিলেন।
কাঠগড়ায় তোলার আগে তাঁর হেলমেট, হাতকড়া ও বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট খুলে রাখা হয়। শুনানির সময় তিনি কাঠগড়ার পেছনে দাঁড়িয়ে ছিলেন।

শুনানি ও গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন

দুদকের পক্ষ থেকে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন। দুপুর ১২টা ২০ মিনিটে শুনানি শুরু হয়। এ সময় আনিস আলমগীরের পক্ষে আইনজীবী ওকালতনামা দাখিল করেন। শুনানি শেষে আদালত তাঁকে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দেন। পরে তাঁকে আবার হাজতখানায় পাঠানো হয়।

মামলার পটভূমি

গত ২৫ জানুয়ারি মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও দুদকের সহকারী পরিচালক আখতারুজ্জামান গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন। এর আগে, ১৫ জানুয়ারি জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগে আনিস আলমগীরের বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক।

অভিযোগের বিস্তারিত

মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, আনিস আলমগীরের নামে ২৫ লাখ টাকা মূল্যের স্থাবর সম্পদ এবং ৩ কোটি ৮৪ লাখ ৬৮ হাজার ৭৮৯ টাকা মূল্যের অস্থাবর সম্পদসহ মোট সম্পদের পরিমাণ দাঁড়ায় ৪ কোটি ৯ লাখ ৬৮ হাজার ৭৮৯ টাকা।
এ ছাড়া পারিবারিক ও অন্যান্য ব্যয় হিসেবে ধরা হয়েছে ১৫ লাখ ৯০ হাজার টাকা। এতে মোট অর্জিত সম্পদের হিসাব দাঁড়ায় ৪ কোটি ২৫ লাখ ৫৮ হাজার ৭৮৯ টাকা।

দুদকের অভিযোগে বলা হয়, তাঁর বৈধ আয়ের উৎস থেকে মোট আয় পাওয়া গেছে ৯৯ লাখ ৯ হাজার ৮৫১ টাকা। এর মধ্যে রয়েছে—

  • অতীত সঞ্চয়: ৫৪ লাখ ৪৫ হাজার ৮২১ টাকা

  • টক শো ও কনসালটেন্সি থেকে আয়: ১৯ লাখ ৩৯ হাজার ৯৭৭ টাকা

  • প্লট বিক্রি থেকে আয়: ২২ লাখ টাকা

  • সঞ্চয়পত্র ও ব্যাংক সুদ: ৩ লাখ ২৪ হাজার ৫৩ টাকা

ঘোষিত ও গ্রহণযোগ্য আয়ের তুলনায় তাঁর ৩ কোটি ২৬ লাখ ৪৮ হাজার ৯৩৮ টাকার সম্পদ বেশি পাওয়া গেছে, যা মোট অর্জিত সম্পদের প্রায় ৭৭ শতাংশ। এই অর্থকে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

আগের গ্রেপ্তার ও বর্তমান অবস্থা

গত বছরের ১৪ ডিসেম্বর রাজধানীর ধানমন্ডির একটি ব্যায়ামাগার থেকে আনিস আলমগীরকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কার্যালয়ে নেওয়া হয়। পরে তাঁকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
১৫ ডিসেম্বর তাঁকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে হাজির করা হলে জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়। রিমান্ড শেষে ২০ ডিসেম্বর তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়। এরপর থেকে তিনি কারাবন্দী রয়েছেন।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here